🔴 প্লাস্টিক পাত্রে খাবার সংরক্ষণ করা দৈনন্দিন জীবনে অনেকেরই সাধারণ অভ্যাস হলেও, এর পিছনে রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিশেষ করে যখন খাবার দীর্ঘ সময় রাখা হয় বা গরম খাবার প্লাস্টিকে রাখা হয়। প্লাস্টিক পাত্রে দীর্ঘমেয়াদে খাবার সংরক্ষণ মানবদেহে বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রবেশ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও ক্যান্সারের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথরিটি (EFSA) এবং ICDDR,B এই ঝুঁকি সম্পর্কে বারবার সতর্ক করেছে।
এই ক্ষতিকর দিকগুলো কয়েকটি বৈজ্ঞানিক রেফারেন্সসহ তুলে ধরা হলো:
# প্লাস্টিক পাত্রে খাবার রাখার ক্ষতিকর দিকসমূহ:
১. বিসফেনল-এ (BPA) ও ফথ্যালেটস (Phthalates) এর নিঃসরণ:
অনেক প্লাস্টিক পাত্র তৈরি হয় BPA ও Phthalates ব্যবহার করে, যা তাপ, সময় বা অ্যাসিডিক খাবারের সংস্পর্শে এসে খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।
*স্বাস্থ্যঝুঁকি:
হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে (Endocrine disruptor)
বন্ধ্যাত্ব ও প্রজনন সমস্যা
শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে ব্যাঘাত
স্তন ক্যান্সার ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি
# রেফারেন্স:
Rochester JR. Reproductive Toxicology, 2013
Meeker JD et al., Philosophical Transactions of the Royal Society B, 2009
২. মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ:
দীর্ঘ সময় ব্যবহারে প্লাস্টিক ক্ষয়ে গিয়ে ক্ষুদ্র কণায় (microplastics) পরিণত হয়, যা খাবারের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে।
*স্বাস্থ্যঝুঁকি:
অন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টি
কোষে বিষক্রিয়া
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
# রেফারেন্স:
Smith M. et al., Current Environmental Health Reports, 2018
Chakraborty TK et al., Journal of Hazardous Materials, 2024 (বাংলাদেশে দুধে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে)
৩. গন্ধ, স্বাদ ও রঙের পরিবর্তন:
প্লাস্টিক পাত্র থেকে রাসায়নিক উপাদান খাবারে গিয়ে তার স্বাভাবিক গন্ধ, স্বাদ ও রঙে প্রভাব ফেলে।
# রেফারেন্স:
Muncke J., Science of the Total Environment, 2009
৪. ক্যান্সার এবং জেনেটিক মিউটেশন:
প্লাস্টিক থেকে নিঃসৃত কিছু রাসায়নিক উপাদান দীর্ঘমেয়াদে জিনের গঠন পরিবর্তন করে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।
# রেফারেন্স:
vom Saal FS et al., Environmental Health Perspectives, 2005
৫. ICDDR,B ও বাংলাদেশি গবেষণা তথ্য:
ICDDR,B এর ২০২৪ সালের এক গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পাত্রের প্রায় ৬৫%-এ BPA/DEHP পাওয়া গেছে যা স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ মাত্রার চেয়ে বেশি।
# রেফারেন্স:
ICDDR,B Brief: “Food Safety – Chemical Contaminant Focus”, 2024
Sultana S. et al., Frontiers in Sustainable Food Systems, 2024
✅ করণীয়:
সবসময় কাঁচ, সিরামিক বা স্টেইনলেস স্টিল পাত্র ব্যবহার করা।
প্রয়োজনে BPA-free লেবেলযুক্ত প্লাস্টিক স্বল্প মেয়াদে ব্যবহার করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে গরম খাবার বা টক খাবার প্লাস্টিক পাত্রে রাখা যাবেনা। আর পুরোনো প্লাস্টিক পাত্র পুনর্ব্যবহার করা থেকে একেবারেই বিরত থাকতে হবে।
আসুন,
“খাদ্য ও পরিবেশ রক্ষা করি, প্লাস্টিক ব্যবহার কমিয়ে চলি।”
জসীম আব্দুল্লাহ
বিএসসি, এমএসসি (ঢাবি)
প্রভাষক ও লেখক
Add comment